ভালোবাসা টা কি? তা আমি বিন্দু পরিমান হলেও বুঝি । আমি ৬ বছর ধরে রিলেশনে ছিলাম, আমার Wife এর সাথে । ওর নাম মেঘ । আমার মা, বাবা কেউ নেই । বড় হয়েছি দাদা
বাড়িতে । ও যেদিন আমার জিবনে এলো সেইদিন থেকে বুঝলাম ভালোবাসা কি... ওর জন্য
আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছি । আমার জিবনের সব সাক্সেসে ও ছিল এবং আছে । আমাদের
রিলেশন গোপন করেই ভালো যাচ্ছিলো । কিন্তু ১ বছর আগে ওর মা জেনে যায় । ওকে চাপ দেয় বিয়ে করতে । ছেলে দেখা শুরু হয় ওর জন্য । আমি অনেক ভেঙ্গে পরি
তখন । ১ দিন ভোর বেলা দেখি ও আমার ফোনে কল করেছে, আমি রিসিভ করলাম তখন ও
বল্ল আমার হল এর সামনে ও দাড়িয়ে আছে । আমি তারাতারি গেলাম । দেখলাম ও একটা ছেরা জামা পরে আছে, মুখে কাটা দাগ, হাতে কাটা দাগ, আমি সেই মুহূর্তের কথা বলে বুজাতে পারব না । আমার ফ্রেন্ড "রাফা"ও এলো । ও "মেঘ"কে নিয়ে ওর
বাড়িতে গেলো । আমি দাদা কে সব কিছু বল্লাম । দাদা আমার জন্য ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে
দিলেন । আমি আর মেঘ ফ্রেন্ডদের হেল্পে বিয়ে করলাম । এখন আমি স্টুডেন্ট পড়াই
এতে মাসে ১৫ হাজারে মত আসে । আমার এই টাকাতে পরাশুনার খরচা হয়ে যায় । ও দাদা বাড়িতেই থাকে । আমি যখন ভার্সিটি ছুটি হয় তখন ,বাড়ি যাই । ও আমায় জড়িয়ে ধরে যেভাবে
কান্না করে আমি নিজের কাছেই ছোট হয়ে যাই । আমি যতদিন বাড়িতে থাকি ততদিন ও
আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমায় । আসলেই আমি ওকে ছাড়া আমার জিবন কল্পনা করতে
পারি না।
ভালোবাসা, ভালোলাগা ও অনুভূতির গল্প আমাদের সাথে শেয়ার করুণ, আমরা আপনার ভালোবাসা ও অনুভূতির গল্প আপনার কণ্ঠে জানিয়ে দিবো সারা বিশ্বকে...
সোমবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১২
কদম ফুল
কদম ফুল
<3 Inbox গল্প <3
লিখেছেনঃ অনিক বসাক
গল্প কি ভাবে লিখে তা জানি না । বাস্তব কোন কথা যদি গল্প বলা যায় তাহলে এই লেখা টা গল্প বলা যাবে । তবে কিছুটা কল্পনা তো থাকবেই । যাতে কোন সমস্যা না হয় তাই গল্পের নায়ক আর নায়িকা এর নাম তা বদলে দিলাম । বাকি মুল কাহিনি তা বাস্তব থেকে তুলে ধরলাম ।
ছেলে টার নাম শুভ্র । তৃতীয় বর্ষ এর ছাত্র । কিছুটা লাজুক আর অনেক টা আবেগময় একটা ছেলে । ও চাইত ওকে কেউ অনেক ভালোবাসুক । যে ভালোবাসা তে কোন রকম মিথ্যা বা ছলনা থাকবে না । কিন্তু পাওয়া আর হয়ে ওঠে নি । প্রথম বর্ষ এর নবীন বরন অনুষ্ঠান । বন্ধুদের জোরাজোরি তে শেষ পর্যন্ত শুভ্র কে ও যেতে হল । সেখানেই গল্পের নায়িকার সাথে প্রথম দেখা । মেয়েটার নাম "কথা" । প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে । প্রথম দেখেই শুভ্রর ভাল লেগে যায় মেয়েটিকে । এর পর ৫-৭ দিন শুভ্র দূর থেকে মেয়েটিকে দেখতে থাকে । ওর কথা বলা । ব্যাবহার, চলাফেরা সবই ঠিক তেমন যেমন টা শুভ্র কল্পনা করেছিল । একদিন বন্ধুদের বলে ওর মনের কথা, সবাই বলে যে তাকে যেয়ে সরাসরি বলতে । কিন্তু শুভ্রর সাহস হয় না । অনেক কষ্টে একদিন শুভ্র কথা কে ডাক দেয় ।
আমি কি আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি? এইটুকু বলার পর যখন কথা বলে হ্যাঁ বলুন । ব্যাস শুভ্র কিছুক্ষণ তোতলাতে থাকে তারপর দৌর মেরে পালায় । কথা আর বলা হলো না । "কথা" তো অবাক ।
শুভ্র এর পর অনেক দিন কথা কে ডেকে কথা টা বলতে চেয়েছে কিন্তু সাহস করে আর বলা হয় নাই । শেষে একদিন আবার সে "কথা" কে ডাক দেয় । এবার "কথা" বলে যে আপনি কি কিছু বলবেন নাকি পলাবেন । ? হি হি ......
শুভ্রর আবার ও সব গোলমাল হতে থাকে তাই তারাতারি চোখ টা বন্ধ করে এক নিশ্বাস এ বলে ফেলে
দেখুন আমি কথা টা বললে আপনি আমাকে থাপ্পর মারতে পারেন । কলেজ এ নালিশ করতে পারেন । বা কাউকে দিয়ে আমাকে মার ও খাওয়াতে পারেন । কিন্তু তবু আমি বলব... আর কথা হল যে আমি আপনাকে আমার মনের মাঝে সেই জায়গাতে বসিয়েছি যেখানে ভালোবেসে জীবনে একজন কেই বসানো যাবে আর কাউকে কোন দিন ও না ।
এইটুকু বলেই শুভ্র আবার ও দৌড়, বলতে পারেন চোখ বন্ধ করেই দৌড় । "কথা" তখন ও দারিয়ে আছে । মনে হয় একটা স্বপ্নের মাঝে চলে গিয়েছিল ।
ভয় এ ভয় এ ১০ দিন পর শুভ্র কলেজ এ ঢুকল । ও ভাবছিল যে হয়ত এই বুঝি কেউ মারবে । হঠাৎ "কথা" কে আসতে দেখে শুভ্রর ভয়টা আরও বেড়ে গেল । পালাতে যাবে ঠিক এইসময় "কথা" শুভ্রর হাত ধরে ফেলল ।
কি? আমি কি ভুত? যে আমাকে দেখলেই পালাও? ভালোবাসার কথা বলে এত দিন কোথায় লুকিয়েছিলে । জানো? প্রথম এ তোমার কথা গুল ভেবে অনেক হেসেছি, কিন্তু তুমি আসছো না দেখে কেন জানি না তোমাকে মিস করতে থাকি, আর মন এর অজান্তেই তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি ।
ঠিক শুভ্র যেমন এক নিশ্বাস এ কথা গুল বলেছিলও আজ "কথা"ও তাই বলে ফেলল । বলেই "কথা" লজ্জা পেয়ে গেল । আর একদম চুপ । সেই থেকে ওদের ভালবাসা ।
এর কিছু দিন পর বর্ষা কাল চলে এলো । কথা একদিন বলল কি বেপার শুভ্র তুমি কিন্তু আজ ও আমাকে একটাও গোলাপ দাও নি... কেন?
শুভ্র শুধু মুচকি হাসল । সে দিন রাত এ অঝর ধারাতে বৃষ্টি নামল । বর্ষার প্রথম বৃষ্টি ।
রাত ৯ টা । বাহিরে তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে । হঠাৎ শুভ্র ফোন করে "কথা" কে বলল যে একটু কি গেট খুলে বাড়ির বাহিরে আসতে পারবে? কথা ভাবল মজা করছে । কিন্তু পরে জানালা দিয়ে দেখল শুভ্র রাস্তাতে দারিয়ে । কথা অনেক কষ্টে লুকিয়ে লুকিয়ে বাইরে এল । শুভ্র এক গোছা কদম হাতে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে কথার কাছে এগিয়ে এল । বলল...
গোলাপ এর তো কাটা থাকে । আমার ভালবাসাতে কোন কাটা নেই । আমার ভালবাসা এই বর্ষার প্রথম কদম ফুল এর মতন পবিত্র আর স্নিগ্ধ । আর এই ভালবাসা শুধু তোমার জন্য । বলে ফুল গুল কথার হাতে তুলে দিল ।
"কথা"র দু'চোখ দিয়ে তখন অঝর ধারাতে জল পরছে । বৃষ্টির জল এর মাঝেও শুভ্র তা লক্ষ করে "কথা"র চোখ মুছে দিচ্ছে............
এর পর ৩ টা বছর কেটে গেছে । কোন অনুষ্ঠান বা প্রতি বর্ষার বৃষ্টি মানেই শুভ্রর থেকে কদম ফুল পাওয়া । শুভ্র ভাল একটা চাকরি পেয়েছে । পারিবারিক ভাবে ও ওদের বিয়ের দিন ঠিক হল ।।
"কথা" বলেছিল ওদের বাসর ঘর সাজানো হবে শুধু কদম ফুল দিয়ে । আর তার মাঝে আমি আর তুমি বসে থাকব ।
শুভ্র বলল ঠিক আছে । কদম ফুল এর মাঝে মাঝে আজ অন্তত কয়েকটা লাল গোলাপ থাকবে ।
কিন্তু এত কদম কই পাবে তাই শুভ্র গ্রাম এ চলে গেল ।
বিয়ের দিন সকাল এ বৃষ্টি হচ্ছে । শুভ্র মোটর সাইকেল এর পিছনে অনেক কদম ফুল নিয়ে বারি আসছে । বাড়ি যেতে মাত্র আর ৫ মিনিট বাকি । ভাগ্যের কি পরিহাস । রাস্তার উল্টো দিক দিয়ে একটা ট্রাক আসছিল যার নিয়ন্ত্রন নষ্ট হয়ে গেছিল ।
শুভ্র কে চাপা দিয়ে চলে যায় । কদম ফুল গুলো ছড়িয়ে পরে আর শুভ্র ওখানেই মারা যায় । খবর পাওয়া মাত্র "কথা" দৌড়ে আসে ।
চার দিকে তখনো কদম ফুল গুলো পরে আছে । কয়েকটা শুভ্র এর রক্তে লাল হয়ে গোলাপ ফুল এর মতন লাগছে আর ঠিক তার মাঝে শুভ্র পরে আছে । কথা ঝাপিয়ে পরে শুভ্রর বুকে । তখন কদম ফুলের কয়েকটা রক্তে লাল গোলাপের মতো দেখাচ্ছে আর মাঝে শুভ্র আর কথা । ঠিক যেমন ওদের আশা ছিল।...................................................।।
কথার কথা আজ বন্ধ হয়ে গেছে । শুধু প্রতি বৃষ্টির রাতে যখন কদম ফুল এর সুবাস ভেসে আসে তখন অঝর ধারাতে জল গরিয়ে পরে কথার দু'চোখ দিয়ে..... কিন্তু আজ আর বর্ষার প্রথম কদম দিতে বা চোখ এর জল মুছে দিতে শুভ্র আসে না। ......................।।
<3 গল্প লিখতে পারি না । জীবন আর প্রথম লিখলাম । জানি ভাল হয় নি । তবু কেউ বকা দিও না । <3
তোমায়
তোমায়
<3 Inbox গল্প <3
<3 Inbox গল্প <3
লিখেছেন-মোঃ নাজমুস সাফিন
মেঘলা আকাশের দিকে তাকিয়ে রফিক দীর্ঘশ্বাস ফেলল।কিছু কষ্ট আছে যা হাজার দীর্ঘশ্বাস ফেললেও বেরিয়ে যায় না;বুকের ভেতর জমে থাকে।রফিকের কষ্টটাও বোধহয় সেরকম।কান্নার মত বৃষ্টি ঝরছে।নীলা অনেক বৃষ্টি ভালোবাসে।যখনই বৃষ্টি হত নীলার প্রাণপন চেষ্টা থাকত রফিককে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে।রফিক ভিজতে চাইত না।বৃষ্টি তার ভালো লাগত না।তবুও নীলা জোর করে তার হাত ধরে বৃষ্টিতে ভিজত।আজও হয়ত নীলা বৃষ্টিতে ভিজছে।কিন্তু রফিকের হাত ধরে নয়,অন্য কারও হাত ধরে।যাকে আজ রাতে সে বিয়ে করেছে।ভাবতে গিয়ে রফিকের বুকের ভেতরে কষ্টটা আরও বেড়ে গেল।তার চোখ পোড়াতে লাগল-আসলেই,কী পেলাম আমি এই জীবনে?যাকে নিজের চাইতেও বেশী ভালোবাসলাম তাকে পেলাম না।সে আমার কাছ থেকে অনেক দূরে চলে গেল।একটা ছোট চাকরি জোগাড় করতে পারলেই বোধহয় আজ মেয়েটা আমার পাশে থাকত।তাও পারলাম না।মেয়েটা বোধহয় অনেক বাস্তববাদী।কিন্তু আমি তো বাস্তববাদী না।তাই যখন মেয়েটা পরম নির্ভরতার সাথে অন্য কারও বুকে মাথা রাখবে,আর সে ভালোবাসার অজুহাতে মেয়েটাকে স্পর্শ করবে;তা আমার পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হবে না।আমি বড় দুর্বল মানুষ।আমার মত দুর্বল মানুষের এই বাস্তব পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোনো অর্থ হয় না।আমার এই জীবন আর ভালো লাগে না।তাই আজ বৃষ্টির রাতে এ জীবন শেষ করে দিবো।অন্য এক জীবনে চলে যাব;যে জীবনে এ রকম দুঃখ-কষ্ট আমাকে জড়িয়ে রাখবে না।
চোখ মেলে রফিক হতচকিত হয়ে গেল।তার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল।চারিদিকে চোখ ধাধানো আলো।চোখে সয়ে নিতে তার কিছুক্ষণ লাগল।রফিক মুগ্ধ হয়ে চারিদিক দেখছে।সে কিছুই বুঝতে পারছে না।সে কোথায় আছে?চারিদিকে এক অদ্ভুত আলো ছেয়ে আছে।এতই সুন্দর আলো;যা তার বর্ণনা করার ক্ষমতা নেই।রফিক বুঝতে পারছে না সে কী করবে।সামনে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া তার কিছুই করার নেই।রফিক ভীত পায়ে সামনে এগিয়ে যেতে লাগল।সে মনে করতে চেষ্টা করছে তার সাথে কী হয়েছে।কিছুই মনে করতে পারল না।শুধু মাথায় আসছে-সে এক অসহনীয় ব্যথা অনুভব করছিল।অসহ্য এক যন্ত্রণা!কিন্তু হঠাৎ করে সব যন্ত্রণা-কষ্ট কমে যেতে শুরু করল।দেহে গভীর অবসাদ ভর করল।তারপর থেকে সে এখানে।জায়গাটা বড় নীরব।হালকা শীতল বাতাস বইছে।আশেপাশে কেউই নেই।রফিক আরও এগিয়ে যেতে লাগল।তার সামান্য ভয় ভয় করছে।হঠাৎ সে কান্নার আওয়াজ শুনতে পেল।দেখতে পেল দূরে বসে একটি মেয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে।রফিক মেয়েটির কাছে গেল।সে কী জিজ্ঞেসা করবে মেয়েটি কাঁদছে কেন?কান্না তো সম্পূর্ণ নিজস্ব একটা ব্যাপার,তার কারণটাও অবশ্যই নিজস্ব।মেয়েটার নিজস্ব ব্যাপারে হঠাৎ জিজ্ঞেসা করা কী ঠিক হবে?রফিক তবুও কৌতূহল ধরে রাখতে না পেরে জিজ্ঞেসা করল-কাঁদছ কেন?কথাটি শুনে মেয়েটি চোখ তুলে তাকালো।তার টলটলে চোখ পূর্ণ করে হতাশার ছায়া।সেই চোখে সামান্য ভয়ও কাজ করছে।মেয়েটি কথাটির জবাব দিল না।কিন্তু অদ্ভুত হলেও সত্য সে এখন আর কাঁদছে না।রফিক সাহস সঞ্চয় করে মেয়েটির পাশে বসল।তাতে মেয়েটি কিছুই বললো না।রফিক জবাব না পাবার আশায় জিজ্ঞেসা করল-আমি এখানে কেন?
তখন মেয়েটি নির্লিপ্ততার সাথে বললো,"তুমি বোধহয় মারা গিয়েছ,তাই এখানে।"
রফিকের মনে হল সে ভুল শুনেছে।মারা গিয়েছি মানে?এই মেয়ে বলছে কী!সে অবাক হয়ে মেয়েটির দিকে তাকালো।মেয়েটিকে দেখে মনে হচ্ছে তার মারা গিয়ে এখানে আসাই স্বাভাবিক,না মারা গেলে বরং আরও খারাপ দেখাবে।রফিকের হঠাৎ নীলার কথা মনে পড়ল।মনে পড়ল সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আত্মহত্যা করবে।আত্মহত্যা করার জন্য সে এক বোতল বিষ খেয়েছিল।তারপরই সে অসহনীয় যন্ত্রণাটা শুরু হল।তাহলে কী সে সত্যিই মারা গিয়েছে?তার ব্যাপারাটা বিশ্বাস হতে চাইল না।সে মেয়েটিকে জিজ্ঞেসা করল,"আচ্ছা,এই জায়গাটা কী?তুমি কিভাবে জানলে আমি মারা গিয়েছি?"
মেয়েটি||এই জায়গাটা কী আমি নিজেও জানি না।আর তুমি মারা গিয়েছ জানলাম কারন আমি নিজেও মারা গিয়েছি।মারা যাবার পর এখানে এসেছি।যাই হোক,তুমি মারা গেলে কীভাবে?
রফিক ইতস্তত করে বলল,''আমি বোধহয় আত্মহত্যা করেছি।বিষ খেয়েছিলাম।''
মেয়েটি||আত্মহত্যা করেছ!আত্মহত্যা করা কী ঠিক?
রফিক||না,ঠিক না।কিন্তু আমার এই কাজটা করা ছাড়া উপায় ছিল না।
মেয়েটি||কেন?কী হয়েছিল?
রফিক||আমি একটি মেয়েকে অনেক ভালোবাসতাম।কিন্তু মেয়েটি আমাকে ছেড়ে চলে গেল।অন্য একজনকে বিয়ে করল।তখন আমার মনে হল এই জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই।
মেয়েটি||আমি কীভাবে মারা গেলাম জানো?
রফিক||কীভাবে?
মেয়েটি||ক্যান্সারে।দীর্ঘ চার বছর ক্যান্সারে ভুগেছি।খুব কষ্ট হত।বর্ণনা করা যায় না এমন কষ্ট।বারবার মনে হত আমি মরে যাই না কেন?কিন্তু যখন মরে যেতে লাগলাম তার আগ মূহূর্তে প্রার্থনা করতে শুরু করলাম আমি যেন আরো এক মূহূর্ত বেঁচে থাকি।এক মূহূর্ত।মামণি আমাকে জড়িয়ে ধরে খুব কাঁদছিল।ইচ্ছে করল মামণিকে আর এক মূহূর্ত জড়িয়ে রাখি।বেঁচে থাকতে খুব ইচ্ছে করছিল।আর তুমি এখানে আত্মহত্যা করলে।কী অদ্ভুত,তাই না?
রফিক দেখতে পেল মেয়েটা চোখের পানি মুছছে।স্বাভাবিক হয়ে কিছুক্ষন পর আবার জিজ্ঞেসা করল,''তোমার ভালোবাসার মানুষ তোমাকে ছেড়ে চলে গেল কেন?''
রফিক||আমি অনেক অর্থকষ্টে ছিলাম।কোনো চাকরিও ছিল না।মেয়েটা বোধহুয় আমার ভবিষ্যৎ দেখতে পেরেছিল।তাই একদিন হঠাৎ দূরে চলে গেল।
মেয়েটি||তুমি তাকে কিছুই বললে না?
রফিক||কী বলব?
মেয়েটি||বলতে তুমি তাকে কতটা ভালোবাসো?
রফিক||বলতে চেয়েছিলাম।কিন্তু বলতে পারলাম না।কেন বলতে পারলাম না তাও জানি না।মানুষের জীবন এত অদ্ভুত কেন?আমরা কোনো একজনের জন্য নিজের মাঝে এক জগৎ ভালোবাসা নিয়ে বসে থাকি।কিন্তু সেই ভালোবাসা তাকে কখনও দেখাতে পারি না।
মেয়েটি চুপ করে রইল।এই প্রশ্নের উত্তর বোধহয় তার কাছেও নেই।রফিক জিজ্ঞেসা করল,''তুমি বসে বসে কাঁদছিলে কেন?''
মেয়েটি||আমি মারা যাবার পরেই অনেক সময় হল এখানে আছি।আমার আশেপাশে কেউই ছিল না।একসময় আমার মনে হতে লাগল আমাকে এখানে বোধহয় সারাজীবন একাই কাটাতে হবে।তাই খুব ভয় করছিল।ভয় পেয়ে কাঁদছিলাম।
মেয়েটি মলিন মুখে কথাগুলো বললো।দেখে রফিকের খুব মায়া লাগল।আহারে বেচারী!সত্যিই বোধহয় অনেক ভয় পেয়েছিল।
এরপর দীর্ঘ দিন কেটে গেল।দীর্ঘ সময়।এই দীর্ঘ সময়ে রফিক মেয়েটির সম্বন্ধে অনেক কিছুই জানতে পারল।জানতে পারল মেয়েটির নাম নিশি।জানতে পারল নিশি আগে চশমা ছাড়া সব কিছু অস্পষ্ট দেখত।কিন্তু এখানে আসার পর তার আর চশমা লাগছে না।চশমা ছাড়াই সে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে।একদিন রফিক দেখতে পেল নিশি মন খারাপ করে বসে আছে।সে নিশির পাশে গিয়ে বসল;বললো,''তোমার কী মন খারাপ?'' নিশি কিছুটা ইতস্তত করে বললো,''নাহ্,মন খারাপ না।"
রফিক||মন খারাপের কারণটা কী আমাকে বলা যায়?
নিশি কিছুক্ষণ চুপ করে রইল;তারপর বললো,''বাবা আর মামণির কথা খুব মনে পড়ছে।আমাকে ছাড়া তারা বোধহয় খুব কষ্টে আছে।জানো,তারা আমাকে অনেক ভালোবাসে।কিন্তু আমি তাদের ভালোবাসার কোনো প্রতিদান দিতে পারলাম না।''
রফিক||ভালোবাসার কী কোনো প্রতিদান হয়?
নিশি||জানি না।তবুও তাদের স্বপ্নগুলো পূরণ করতে বড় ইচ্ছে করে।অনেক চেষ্টা করেছিলাম।কিন্তু তাদের কোনো স্বপ্নই পূরণ করতে পারলাম না।
রফিক||তুমি চেষ্টা করেছিলে,তা তো তোমার বাবা-মা জানেন।এতেই তারা অনেক খুশি হবেন।বরং তুমি তাদের কথা চিন্তা করে মন খারাপ করে আছ-জানতে পারলে তারা অনেক কষ্ট পাবেন।এখন তুমিই বল তোমার কি মন খারাপ করে থাকা উচিৎ?
নিশির ঠোটের কোনায় হালকা হাসি ফুটে উঠল।সাথে তার চোখও যেন হাসছে।এই হাসির মাঝে এমন কিছু একটা আছে যা মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দেয়।রফিক মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে।তার এই মুগ্ধতা শুধুই নিশির জন্য।নীলাকে এখন আর তার মনে পরে না।নীলা বলতে রফিকের জীবনে কেউ ছিল তাই সে ভুলে গিয়েছে।রফিকের এখন এই জীবন অনেক ভালো লাগে।এই জগতের মায়াবী আলো তার ভালো লাগে।সে চোখ বন্ধ করলে নিশিকে দেখতে পায়।দেখতে পায় নিশিকে নিয়ে সে খুব সুন্দর স্বাভাবিক একটি জীবন যাপন করছে।মাঝে মাঝে তুচ্ছ কারণে অভিমান করে একে অপরের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিচ্ছে এমন একটি জীবন।
নিশি আজকাল রফিককে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে।রফিকের কোনো কথারই ঠিক মত জবাব দিচ্ছে না।নিশির এ আচরণে রফিক হতাশ হয়ে তাকিয়ে থাকে।তা দেখে নিশির বড় মায়া লাগে।তবুও তার কিছুই করার নেই।কারন নিশি এমন কেন করছে তা সে নিজেও জানে না।শুধু জানে রফিককে এখন তার সবসময়ই মনে পড়ে।এই অনুভূতিই কী ভালোবাসা?নিশির ধারণা-ভালোবাসা হচ্ছে অনেকটা ভোরের আলোর মত;যা মানুষের জীবনকে রহস্যময় রূপে আলোকিত করে তোলে।রফিককে নিশি যেন তার মনের সব কথা বলতে পারে।হাসি-আনন্দ,দুঃখ-কষ্টের প্রতিটি মূহূর্তে ছায়া হয়ে রফিক তার পাশে থাকবে।একটি মেয়ে কখনও এর চাইতে বেশী কী কিছু চায়?তাহলে কী সে রফিককে তার অনুভূতির কথা বলে দেবে?রফিক যদি তাকে ফিরিয়ে দেয়?তাহলে তো সে বড় একা হয়ে জাবে।প্রিয়জনদের জীবন থেকে হারিয়ে ফেলার কষ্টটা যে কী তীব্র-তা নিশির চেয়ে ভালো করে কেউই জানে না।নিশি চোখ বন্ধ করে ফেললো।কিছু শীতল বাতাস এসে তাকে স্পর্শ করল।
একটু আগে নিশি যা শুনেছে তা তার বিশ্বাস হতে চাইল না।তার হাত-পা কাঁপছে।শরীর খুব দুর্বল লাগছে।হৃদস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে।''আমি তোমাকে অন্যায় রকমের ভালোবাসি'' কথাটি এই একটু আগে রফিক তাকে বললো!নাকি সে ভুল শুনেছে?নিশির মনে হচ্ছে সে স্বপ্ন দেখছে।খুব সুন্দর একটা স্বপ্ন।অন্যদিকে,রফিক উৎকন্ঠা নিয়ে নিশির দিকে তাকিয়ে আছে।মাথা নিচু করে রাখায় নিশির চোখ দেখা যাচ্ছে না।সে ঠোটে ঠোট চেপে দাঁড়িয়ে আছে।রফিক হঠাৎ অবাক হয়ে লক্ষ্য করলো নিশির ঠোট হালকা হালকা কাঁপছে।সাথে ঠোটের নিচে ডান চিবুকের তিলতাও কাঁপছে।নিশি কী কাঁদছে?এই কান্নার দৃশ্যই হয়তবা রফিকের জীবনে দেখা সবচেয়ে সুখকর দৃশ্যের একটি।হঠাৎ কিছু একটা হলো।রফিকের চারপাশটা ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে গেল।তার সামনে নিশি নেই,কেউই নেই।এক নিশ্ছিদ্র শূণ্যতার মাঝে সে দাঁড়িয়ে আছে।তার দেহে প্রবল ক্লান্তি এসে ভর করল।তার মনে হতে লাগল সে অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে।
ছেলের সেবা করার জন্য রফিকের মাকে বেশীর ভাগ সময়ই এখন হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে।প্রতিনিয়ত তিনি ছেলেকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে যথাসম্ভব চেষ্টা করছেন।ছেলেও সেই পুষ্টিকর খাবারগুলো ভালোভাবেই খাচ্ছে।কিন্তু খুব একটা বেশী কথা বলছে না।কোনো প্রশ্নেরই জবাব দিতে চায় না।ছেলের এই আচরণে তিনি খুব একটা ব্যথিত হন না।গভীর মমতায় ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকেন।দীর্ঘ সাত মাস কোমায় থাকার পর ছেলে ফিরে এসেছে এতেই তিনি আল্লাহর কাছে অনেক কৃতজ্ঞ।এর চাইতে বেশী তিনি কিছুই চান না।এখন গভীর রাত।রফিকের মা হাসপাতালে কেবিনের বাইরে বসে আছেন।কেবিনের বিছানায় রফিক চোখ মেলে শুয়ে আছে।চারপাশে যন্ত্রের শব্দ হচ্ছে।কেবিনের বড় জানালাটা রফিক তার মাকে খুলে যেতে বলেছিল।সেই জানালা দিয়েই হালকা বাতাস আসছে।রফিক চোখ বন্ধ করল।তার মনে হচ্ছে নিশি যেন তার পাশে হাত ধরে বসে আছে।কাচের চুড়ির শব্দ হলো।নিশি পরম ভালোবাসার সাথে রফিকের চুল স্পর্শ করল।
অবশেষে তাকে পাওয়া
অবশেষে তাকে পাওয়া
<3 Inbox গল্প (31 August 2012) <3
লিখেছেনঃ Farhad (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাই ছদ্ম নাম দেয়া হয়েছে)
2০০৩, ট্রেন চট্রগ্রাম এর পথে ...
রিং রিং রিং...হটাত ফোনটা ভেজে উটল ...ওপাশ থেকে কে যেন বলল ''তানিয়া হসপিটালে''।
গল্পের নায়িকাঃ- তানিয়া...
নায়ক আমি...
কক্সবাজারে যাচ্ছি আমার দুই কাজিন কে নিয়ে ট্রেনে করে, ট্রেন ও আসল ঠিক সময়ে, ট্রেনে উঠার ঠিক ২ ঘন্টার মাথায়, ঐ কলটা যেন সবকিছু এলোমেলো করে দিল, কি করব কিছু বুঝে ঊঠতে পারছি না. পরের স্টেশন এ নেমে বাসায় চলে আসলাম...
২ মাস পর জুলাই ২০০৩...
তানিয়া বাংলাদেশে আসতেছে এ খবরটা যখনই শুনলাম কি যে খুশি হলাম তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা, আমার মনে হয়েছিল আমার সারা জীবনেও আমি এত খুশি কোনদিন হয়নি...মনে মনে কত কিছু চিন্তা করতে লাগলাম দিন-রাত মাথায় শুধুই তানিয়া...
Flashback......
আমি তানিয়াকে ভালবাসি কখন থেকে ভালবাসি জানি না, মনে হয় জন্মের পর থেকেই, আমার মনে হয় আমার জন্মই হয়েছে শুধুই ওর জন্য...
তখন আমার বয়স ৬ আমরা সপরিবারে ইংল্যান্ডে থাকি, আমাদের পাশের বাসা ডিব্বিদের (ওকে আমি আদর করে ডাকতাম ডিব্বি আর ও আমাকে ডাকতো ডিব্বা )...ওর আব্বা আর আমার আব্বা বিজনেস-পার্টনার সে হিসেবে ওর আম্মা আর আমার আম্মার মাঝেও খুব ভাল সম্পর্ক...ওদের বাসায় কোন বাংলাদেশি খাবার বিশেষ করে শুটকি রান্না করা হলে আমাদের বাসায় আসত আর ওদের বাসায় রান্না করা হলে ওদের বাসায় যেত... এভাবে ও সারাদিনই আমদের বাসায় থাকত আর আমি ওদের বাসায় মানে সারা দিনই আমি যেখানে, তানিয়া সেখানে, যেন আমি ছাড়া তানিয়া অসম্পূর্ন ঠিক তেমনই তানিয়া ছাড়া আমি অসম্পূর্ন । সারাদিনই আমরা মারামারি দৌড়াদৌড়ি করতাম আমাদের বাসার সামনের বাগানে, এক জনের জন্য আরেক জনের মনের ঠান ও ছিল খুব বেশি ও যেমন আমাকে ফেলে কিছু খেতনা আমিও ওকে ছাড়া কিছু করতাম না ।
হয়ত এভাবেই চলে যেত আমাদের সারাজীবন, কিন্তু না আমদের ''লাভ স্টোরি'' এভাবে শেষ হল না... আজ বুঝতে পারছি যা হয়েছিল ভালই হয়েছিল, না হলে হয়ত আমরা কোনদিন ও বুঝতাম আমরা যে একজন আরেকজনকে এত ভালবাসি !...
যেকোন কারনে আমরা আমরা স্বপরিবারে আজীবনের জন্য বাংলাদেশে চলে আসি, মানে চাইলেও আর ইংল্যান্ডে যেতে পারব না বিশেষ করে আমার আব্বা... যাই হোক বাংলাদেশে এসে আমাদের কোন সমস্যা হল না সব কিছু ঠিক ঠাক মতই চলছিল, আমি এখানে স্কুল এ ভর্তি হলাম, প্রথম প্রথম তানিয়া কে মিস না করলে পরে এত মিস করা শুরু করি তা কোন রিয়েল লাভার ছাড়া বুঝতে পারবে না এবং তখনই বুঝতে পারি যে আমি ওকে ভালবাসি আর ওকে ছাড়া থাকা যে কত কষ্ট... এভাবে আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের দিনগুলি কাটতে থাকে তানিয়াকে ছাড়া...
১৯৯৮ তখন আমি ক্লাস ফোর এ পড়ি...
তানিয়া বাংলাদেশে ওর আন্টির বিয়ের জন্য এসেছে, তানিয়াদের ফ্যামিলি থাকত আমাদের বাসায়ই তখন আমার জীবনের হারানো সেই সুখের দিনগুলি ফিরে আসে আমি তানিয়াকে আবার আগের মত আপন করে নিতে একটু দেরি করলেও তানিয়া ঠিকই আমাকে আপন করে নিতে দেরি করল না আমাকে জড়িয়ে ধরে কিস করে বলত ''DIBBA U FORGET MEH NA?''... কিন্তু তখন আমি ওকে কিছু বলতে পারতাম না, কেন যে পারতাম না তা আজও জানি না, কিন্তু আমি তখন ঠিকই বুঝতে পারতাম আমি ওকে ভালবাসি, আর ওকে ছাড়া থাকতে আমার যে কত কষ্ট হয়... সুখের দিন খুব তাড়াতাড়ি চলে যায়, প্রায় ২ মাস পর তানিয়া আমাকে একা ফেলে চলে যায় ৭০০০ মাইল দূরে ।
আবার শুরু হয় একা একা আমার কষ্টের দিনগুলো... আমি একা একা তানিয়াকে নিয়ে চিন্তা করতে করতে সময় কাটাতে থাকি...
ওর ছবি দেখে দেখে কাটাতে থাকি দিনগুলি ।
এভাবে দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়, দেখতে দেখতে আমি এস.এস.সি পাশ করি ২০০৫ সালে,
জুলাই ০৯ ২০০৫...
ঢাকা এয়ারপোর্ট....তানিয়াদের বিমান ল্যান্ড করার কথা ছিল দুপুর ১২.৪৫ মিনিটে, বিমান ল্যান্ড করে ১.১০ মিনিটে, আমি ১.৪৫ মিনিটে গোলাপী রঙের ড্রেস পরা তানিয়াকে প্রথম বার দেখেই চিনে ফেলি আমার রানীকে...
গাড়ি চলছে, মধ্যখানে আন্টি (তানিয়ার আম্মা) এক পাশে আমি আরেক পাশে তানিয়া,,, আমি বার বার ওর দিকে তাকাচ্ছি কিন্তু ও একটি বারের জন্য ও আমার দিকে তাকাল না ।
কয়েকদিন কেটে গেল কিন্তু তানিয়া একবারও আমার দিকে তাকাল না কোন কথা বলল না, আমার তখন মরি-বাচিঁ আবস্থা, যাকে আমি এত ভালবাসি সে কিনা আমাকে হাই পর্যন্ত বলল না... প্রায় এক মাস পর্যন্ত চলল এরকম...
এক মাস পর...
রাত ১২ টায় একটা কল আসল আমার ফোনে, নাম্বারটা আমার চিনা, কারন এটা আমার নাম্বার যা তানিয়াকে দেয়া হয়েছিল, আমি এর আগে তানিয়াকে কল দেইনি কারন আমি চাচ্ছিলাম ও আমিকে কল দিক...
ও আমাকে বলল ''তুমি কেন সবাইকে বলছ আমাকে ভালবাস ?'' আমি বললাম আমি কাওকে বলিনি আমি তোমাকে ভালবাসি, তবে এটা সত্যি আমি তোমাকে ভালবাসি এবং তোমাকে ছাড়া বাচঁব না ।
তখন ও বলল ''i don't know what is love but we can be good friend''...
আমি বললাম Ok তুমি আমাকে ফ্রেন্ড ভাবতে পার কিন্তু আমি তুমাক ঠিকই ভালবেসে যাব, ও বলল Ok যদি আমি কোনদিন ভালোবাসার মানে বুঝতে পারি, তোমাকে জানাব... এভাবে প্রত্যেক দিন চলতে আমাদের কথা বলা আর বার্তা আদান-প্রদান ।
দেখতে দেখতে আমার সুখের দিনগুলি আবার চলে যায় তানিয়ার যাওয়ার সময় এসে যায়, যাওয়ার আগের রাতে আমরা সারা রাত কথা বলি ও আমাকে বলে আমি তোমাকে পছন্দ করি, তোমাকে কখনও ভুলতে পারব না, কিন্তু আমি তোমার ফ্রেন্ড হয়ে থাকতে চাই, আমি বললাম তোমার যা ইচ্ছা কর আমি তোমাকে কখনও জোর করে কাছে আনব না আর তোমাকে কখনও ভুলতেও পারব না, তুমি শুধু আমাকে ভালোবাসতে দিও তোমাকে...
তানিয়া আবার আমাকে একা ফেলে চলে গেল আবার আমার দিনগুলি আগের মত বিরহে কাটতে লাগল...
তানিয়া ইংল্যান্ডে গিয়ে আমার সাথে কোন যোগাযোগ করল না ।
নভেম্বর ২০০৫...
এইচ.এস.সি পাশের পর আমি এক মাসের জন্য লন্ডন যাচ্ছি, খুব খুশি মনে আমি আবার আমার রানীকে দেখতে পাব ।
আমি লন্ডনে আসার ২ দিন পর আমার সাথে তানিয়ার দেখা হয়, আর আমি জানতে পারি যে তানিয়া অন্য একটা ছেলেকে ভালোবাসে, আমার ভাঙ্গা হৃদয় যেন চূড়মার হয়ে গেল । তবুও আমি তানিয়ার সাথে খুব স্বাভাবিক আচরন করি এবং ওর সত্যবাদিতা আর নিষ্পাপ আচরন আমাকে ওর প্রতি আরও আকৃষ্ট করতে লাগল, আমি ওকে আরও বেশী ভালোবাসতে লাগলাম এবং ওকে বুঝাতে লাগলাম আমি ওকে কত ভালোবাসি !!! একদিন আমি ওকে আমার লেখা একটি ডায়েরী পড়তে দিলাম, এর পর দুই দিন ওর সাথে আমার দেখা হয়নি, পরে অবশ্য জেনেছিলাম ও আমার ডায়েরী পরে সারারাত কেদেঁছিল ।
তারপর আমি একদিন তানিয়া একসাথে সারা লন্ডন ঘুরলাম এবং একজন আরেক জনের খুব কাছে আসতে শুরু করলাম ।
এক মাস পর ২৪ ডিসেম্বর আমার দেশে আসার সময় হয়ে গেল ও আমাকে বিদায় জানাতে এয়ারপোর্টে এল ও আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল ''may b i'm fallen in love with u''. কিন্তু আমি তোমাকে জানাব ২৬ ডিসেম্বর মানে আমার বাংলাদেশে আসার ২ দিন পর...
আমি দেশে এসে কোন আশাই করিনি ও আমাকে কল করবে বা আমার সাথে কোন যোগাযোগ করবে, কিন্তু ও আমাকে টিকই কল করতে লাগল এবং আমরা আগের মত কথা বলতে লাগলাম, সারাদিন যা যা করতাম তা আমরা শেয়ার করতাম । কিন্তু ও আমাকে কিছুই বলল না আমাকে ভালোবাসে কি না !!!!
দেশে এসে ওকে না দেখে থাকতে আমার খুব কষ্ট হতে লাগল, তাই আমি আবার স্টুডেন্ট ভিসায় ইংল্যান্ড যাওয়ার চেষ্টা করলাম কিন্তু ভিসা পেলাম না ।
জুলাই ২০০৬...
৬ মাস পর স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে জার্মানী গেলাম, তখনও তানিয়ার সাথে আমার ফোনে কথা হত, আমি জার্মানী থেকে আবার লন্ডন যাওয়ার চেষ্টা করলাম কিন্তু এবারও ভাগ্য আমার সহায় হল না মানে ভিসা পেলাম না ।
খুব কষ্ট হতে লগলো কয়েক ঘন্টার দূরুত্বের মাঝে থেকেও আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির সাথে দেখা করতে পারছি না, যার জন্য এত দূর আসা...
অনেক কিছুর পর তানিয়াকে রাজী করালাম আমরা ৩১ আগষ্ট (তানিয়ার জন্মদিন) প্যারিসে দেখা করব...
০২ সেপ্টেম্বর ২০০৬...
আমরা প্যারিসে দেখা করলাম, ওর জন্মদিন পালন করলাম, আমরা একসঙ্গে ৩ দিন ৬ ঘন্টা ৪৬ মিনিট ২৫ সেকেন্ড একসঙ্গে কাটালাম, খুব ইনজয় করলাম... আর আমি ওকে বুঝাতে লাগলাম আমি ওকে কত ভালবাসি ।
৩ দিন পর আমি জার্মানী আর ও ইংল্যান্ড চলে গেল । আমাদের ফোনে কথা বলার মাত্রা আরও বেড়ে গেল।
০৪ নভেম্বর ২০০৬...
হঠাত ডোর বেল ভাজতেছে দরজা খুলে যা দেখলাম আমার জ্ঞান হারাবার মত অবস্থা হল, তানিয়া আমার সামনে হাতে কেক,
(৪ নভেম্বর আমার জন্মদিন) তানিয়া আমার বাসায় ছিল ২ দিন, আমি ওকে নিয়ে সারা ফ্রাঙ্কফোর্ট ঘুরলাম, ০৬ নভেম্বর ও চলে যাবে, আমি ওর সাথে বার্লিন পর্যন্ত ট্রেনে গেলাম অনেক কথা হল আমাদের মাঝে, একসময় তানিয়া আমাকে খুব আস্তে করে বলল '' will u marry me''. আমি বললাম কি? ও তখন আমাকে আবার জোড়ে বলল ''i wanna spend ma whole life with u'' will u?... আমি তখন ভাষা হারিয়ে ফেলি, প্রায় ১০ মিনিট পর আমি ওকে জড়িয়ে ধরে কিস করতে থাকি...
২৯ এপ্রিল ২০০৭...
আমি আর তানিয়া একসাথে বাংলাদেশে আসি, কি একনও বুঝলেন না ???
০৯ মে ২০০৭...
আমাদের বিয়ে...
১১ অক্টোবর ২০১১...
এখন আমরা আমস্টার্ডামে আজ সাড়ে চার বছর হল আমাদের বিয়ের, এ সাড়ে চার বছরে আমরা একটা দিনও কেউ কাওকে ছাড়া কাটাইনি...
আজ আমাদের ঘর আলো করে এসেছে ''feona'' আমাদের একমাত্র ১ বছরের মেয়ে...
আজও যখন ঘুম থেকে উঠি ওর কিসে আর উঠে শুনতে পাই ''i love u''.. কিংবা আমি ওকে কিস করে ঘুম থেকে তুলি আর বলি ''i love u''... তখন শুধুই মনে হয় জন্মেছি শুধু তুমারই জন্য...........................
<3 প্রিয় পাঠকশ্রোতা এটা আমার জীবনের চিরন্তন সত্য গল্প............যা এই প্রথম আমি এই পেইজ এ লিখেছি...... ৩ দিন অনেক কষ্ট করে লিখেছি আমি সিলেটের মানুষ তাই শুদ্ধ বাংলা বলতে খুব সমস্যা হয়, তাই আমি আমার এক ফ্রেন্ডের সাহায্য নিয়ে লিখেছি......ভুল হলে ক্ষমা করে দিবেন............... আর আশা করি যে যাকে ভালোবাসে, সে যেন তাকে পায়............ <3
রবিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১২
সহজ ভালবাসা, অনেক কষ্টে পাওয়া
সহজ ভালবাসা, অনেক কষ্টে পাওয়া
<3 Inbox গল্প (18 August 2012)<3
লিখেছেনঃ Nafiz Abrar
Nil (নীল)
আমিঃ কেমন আছো?
ওঃ ভাল (খুব অহংকারের সাথে মাথাটা নাড়ালো…)
আমিঃ মেজাজ খারাপ?
ওঃ না…
আমিঃ রাগ করে আছো নাকি?
ওঃ (……কিছুক্ষন চুপ থাকার পরে উঠে চলে গেল)...
এই কথা গুলো হয়েছিলো যখন ও ক্লাস সিক্সে পড়ে, আর আমি টেনে । আমার বাবা-মার সাথে ওদের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম । আমি ওর এরকম ব্যবহারের আগা-মাথা কিছুই বুঝলাম না । ওই সময় থতমত খাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার ছিলনা । তখন ও আর আমি ছিলাম শুধুই বন্ধুত্তের একটা ছোট্ট নাম । আমরা দুজন দুজনকে সব কথা বলতাম, অনেক হাসতাম, মারামারি করতাম, ছোটবেলা থেকেই…
আমি যখন অনেক ছোট ছিলাম, তখন ও একবার আমাদের বাসায় এসেছিলো । তখন আমি তার ঠোটে একটা ভালবাসার চিহ্ন একেছিলাম, সেই ঘটনার পর থেকেই ও আমার উপর ভীষণ রাগ করে বসে আছে । অথচ আমি দিব্যি সেই কথা ভুলে বসে আছি । সত্যি কথা, আমার এখনো মনে পড়েনা আমি এরকম কিছু করেছিলাম কিনা । যাই হোক, ওর রাগ ভাঙ্গালাম, ( যদিও তখনো জানতামনা কেন রাগ করে আছে )। আমাদের ওই বয়স থেকেই খুব সুন্দর একটা বন্ধুত্ত হয়ে গেল, আস্তে আস্তে আমার উপর রাগটাও ও ভুলে গেল… এইরকম একটা সময়ে আমরা যখন আমাদের বন্ধুত্তটা খুব উপভোগ করছি, এমন একটা সময় গাধার মত একটা কাজ করলাম, ওকে প্রোপোজ করে বসলাম । আসলে আমারই বা কি করার ছিল, আমিতো ওকে ছাড়া থাকতে পারছিলামনা । ও সারাদিন একটু পর পর জ্বালাতো, খুব বিরক্ত করতো, মিসকল দিত, যদিও আমি মজাই পেতাম, তারপরেও ওকে দেখাতাম যে আমি খুব বিরক্ত হই…
প্রোপোজ করাটা আসলেই গাধার মত একটা ডিসিশন ছিল, কারন তারপর ও আমাকে বুঝালো যে আমাদের সম্পর্কটা সম্ভব না ইত্যাদি ইত্যাদি…
তারপর চার মাসের মত আমার সাথে ও কথা বলেনি, ওই সময় চার মাস কথা না বলাটা কতোটা কষ্টের সেটা আমি জানি, ওকে ছাড়া আমি কতোটা একা এটাও তখন বুঝে গেছি, কারন আমার ড্রেস-আপ থেকে শুরু করে অভ্যাস সব কিছু ও নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিয়েছিল, হয়তো সে নিজেও তা বুঝেনি, আর আমিতো বুঝিইনি…
যা হবার তাই হল, একটা সময় আমি আমাকে ধরে রাখতে পারলাম না, পড়াশোনায় ছেদ পড়ল, সিগারেটে আসক্তি বেড়ে গেল………
ঐ সময় কষ্টটা আমার ভিতরে আটকে গেল, ভীষণ শক্ত করে, বুকের মধ্যে মিশে গেল গভীর হয়ে…
একটা সময় আমি আরেকটা মেয়ের সাথে মেশা শুরু করলাম, কোন সম্পর্কে জড়াইনি, শুধু একটা ভাল বন্ধু হয়ে ছিলাম, তাকে আমার ভালোবাসার মানুষটার কথাও বলছিলাম। সে সবকিছু শুনে বলছিল, আমার ‘ও’ নাকি ঠিকই ফিরে আসবে, আমি বিশ্বাস করিনি, ইচ্ছে করেই করিনি, কারন আমি জানতাম আমি যেই জিনিস আশা করি, সেটা হয়না…।
একবার ভ্যালেন্টাইন ডে তে রাত ১২ টায় ওর ফোন আসলো, আমি সত্যি তখন বিমুড় হয়ে গেছিলাম, ওইদিন আমি ওকে আমার নতুন বন্ধুটার কথা বলছিলাম, কিন্তু ও সেইটা সহজ ভাবে নিতে পারেনাই, যে কারনে আবারো বোকার মত কাদলাম, কারন অনেক পরে জানতে পেরেছিলাম, ঐদিনই সে আমাকে বলতে চেয়েছিল যে সেও আমাকে ভালবাসে… আমি আমার নতুন মেয়ে বন্ধুটার কথা বলাতে ও সহ্য করতে পারে নাই, আমারো ঐ দিন শোনা হয়নি ও আমাকে ভালবাসে…
আরো প্রায় ১ বছর পর, আমার এক বোনের বিয়েতে ওর সাথে আমার দেখা, তখন জানতে পারলাম ও আমাকে ঐ ভ্যালেন্টাইন ডে তে ওর ভালবাসার কথা বলতে চেয়েছিল, কিন্তু ঐ সময় আমি ওকে জোর করতে পারলাম না । আমিতো আমার নতুন মেয়ে বন্ধুটাকে ভালবাসি না, শুধু আমার কিছু কষ্ট তার সাথে শেয়ার করছিলাম । আমি জানি আমার স্বপ্নের নায়িকাটা চায়নি আমি আমার কষ্ট ও ছাড়া কারো সাথে শেয়ার করি, তাই ঐ মেয়েটার সাথে মেশা বন্ধ করে দিই…
তারপর আমি H.S.C দিলাম, আর ও ক্লাস নাইনে। এক সন্ধায়,আমাদের বাসার ছাদে…
ওঃ তুমি ঐ মেয়ের সাথে ক্যানো মিশতে গেছিলা?
আমিঃ কি করব, তুমি আমারে ছাইড়া গেলা যে… :p
ওঃ তুমিতো আমাকে ভালোইবাসো না…
আমিঃ তাই?
ওঃ নাতো কি?
আমি একটা গোলাপ ফুল তার হাতে দিলাম
আমিঃ তাহলে এটার সব পাপড়ি ছিড়ে ফেল…
ওঃ ফুল কখন আনছ?
আমিঃ যদি মনে হয় আমি তোমাকে ভালোবাসি না, সবগুলো পাপড়ি গুলো ছিড়ে ফেল…
ও ছেড়া শুরু করল, একটা একটা করে ছিড়ল, শেষ পাপড়িটা ছেড়ার আগে আমার দিকে তাকালো, আমি কিছু বলার আগেই আমাকে জড়ায় ধরল,
ভীষণ শক্ত করে, বুকের মধ্যে মিশে গেল, সারাজীবনের জন্য…
<3 ভালোবাসা এমনি করেই জিতে যায় <3
<3 ভালোবাসা জিতবে <3
<3 ভালোবাসা জিতবে <3
অসমাপ্ত
অসমাপ্ত
<3 Inbox গল্প (05 July 2012) <3
লেখক:অর্থহীন
২০০৮. দিনটা ছিল খুব গরমের, সাথে ছিল হালকা বাতাস। তাই ঘরের সামনে এসে বসেছিলাম একটু ঠান্ডা বাতাসের আশায়। ঠিক তখনই মিসকল আসল ফোনে। মিসকল দেয়া নাম্বারে ফোন দিলাম। সুন্দর ১টা মেয়ের কন্ঠ শুনতে পেলাম।যার মতো সুন্দর কন্ঠ আমি আজো শুনিনি। তার এত সুন্দর কন্ঠ আমার কাছে বাতাসের মত মনে হল। কথা বলার পর জানতে পারলাম যে ভুল নাম্বারে ফোন করেছে সে। তার নাম টা ছিল রিদিলা। আমার নাম জানতে চাইল সে। মিতথে করে কড়া রোদের মর্ধে ছিলাম বলে নাম টা বললাম রোদ।চিনিনা তাতে কি? বড় বড় কবিদের কিছু ডায়লগ শুনিয়ে ফোনে পটানোর চেষ্টা করতে লাগলাম প্রতিদিন। অবশেষে ১দিন সফল হলাম। প্রেমিক নয় হলাম বন্ধু। সারাদিন কথা বলতাম তার সাথে। বলতে বলতে যখন কথা আর থাকতনা। তখন মিতথে বলে বলে সময় কাটাতাম। রিদিলা বলত কম, শুনত বেশি বেশি। শুধু তাই নয় তার রাগও ছিল বেশি বেশি। মাঝে মাঝে খুব রেগে যেত। তখন অননের ডায়লগ নিজের বলে চালিয়ে রাগ কমাতাম রিদিলার। কয়েকদিন পরপর আমাদের ঝগড়া হত। আবার মিলে যেতাম। এভাবেই কাটতে লাগল আমার সপ্নের মত দিনগুলি। একদিন হঠাত্ করে আমি রিদিলাকে বললাম চলো দেখা করি। রিদিলা রাজী হল। দিনটি ছিল পহেলা বৈশাখ। ১টা নির্দিষ্ট সময়ে, ১টা নির্দিষ্ট স্থানে আমাদের ১ম দেখা হল। তবে দুর থেকে। রিদিলাকে দেখতে আমার ভাল লাগেনি। কিন্তু আমাকে তার ভাল লেগেছিল। তবুও কথা বলতাম। ১টা সময় ভাবতাম খুব সুন্দর ১টা মেয়েকে ভালবাসবো। কিন্তু আজ সে ধারণা আমার আর নেই। রিদিলাকে আমি ভালবাসতাম না। কিন্তু ১টা আবেগ কাজ করত। কারণ তার হাসিতে ছিল ঝরণার ধারা, তার মৃদু কন্ঠে আমি আমাকে হারাতাম আজানায়। তাকে নিয়ে লিখতাম কবিতা আর কবিতা। তাকে ঘিরে ছিল আমার সব ভাললাগা। সবসময় সে আমার কল্পনার মঝে থাকত। সে ছিল মায়ারাজের রাজকননা। তাই তাকে আমি ডাকতাম মায়াবতী। আমার সাথে মায়াবতীর গল্পটা ঠিকঠাক ভাবেই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ আমার মনে হল যে আমি সনাতন (হিন্দু) আর রিদিলা মুসলিম। আমি তাকে ছাড়া থাকতে পারতাম না। তার প্রতি আমার এই আবেগটা ভালবাসায় পরিণত হতে পারে। রিদিলা জানেনা আমি মুসলিম নই। তাই একদিন এই কথাটা বলে দিলাম। অনেক ঝগড়া হল কিন্তু সে আমাকে দুরে সরে যেতে দিলনা । অনেক ভাবে অনেক চেষ্টা করলাম লাভ হল না। অবশেষে বাজে কিছু কাজের মাধ্যমে আমাদের সম্পর্কের অবসান হল । তবে রিদিলা এবং আমার মাঝে আবার কথা হবে প্রতি বছর ভালবাসা দিবসে । ভালবাসা দিবস এলো ২০০৯ ফোন দিলনা। আসল ২০১০ তাও ফোন দিল না । তাই আমি নিজেই ওর ফোনে ফোন দিলাম । ফোন অফ । মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল আমার । সত্যি কথা বলতে কি আমি রিদিলাকে ভালবেসে ফেলেছি । এই ২টা বছর আমার ফোনে যত মিসকল এসেছে আমি সবগুলোতে ফোন করতাম রিদিলা ভেবে । তাকে ভেবে লিখেছি শত শত গান। প্রতি রাতে সপ্নে তার সাথে দেখা হত । তাই একদিন লিখতে লাগলাম আমার অসমাপ্ত উপন্যাসের ৫৫৫ পেজের এই লেখাটা. . . . . . . . কিছু ভালোলাগা এবং ভালোবাসা যা অমলিন । কিছু নতুন স্বপ্ন যা দেয় আমাদের আনন্দের প্রতিশ্রুতি । কিছু মানুষ রয়েছে যাদের নিয়ে ভাবলে মনের মাঝে যেন জেগে উঠে একটু খানি আনন্দের ছটা । কিছু হাসি রয়েছে যা জাগিয়ে তোলে হারানো অনুভুতি গুলো নতুন রুপে । কিছু অভিমান যা ভাবিয়ে তোলে মনকে সম্পর্ক হারানোর ভয়ে। আরও কিছুদিন কেটে গেল । একদিন বিদেশি নাম্বার থেকে আমার ফোনে ১টা মেয়ের ফোন আসে । সেই পরিচিত সুর রিদালা । রিদিলা এখন আমেরিকা থাকে । অনেকদিন পর কাছে পেয়ে লুকিয়ে থাকা সব অভিমান ওকে জানালাম । ফেসবুকে এড করলাম । প্রায় কথা হত চ্যাট হত । আস্তে আস্তে ভালবাসা বারতে লাগল আমার । আমাকে রিদিলা ভালবাসে তা জানিয়ে দিল একদিন । সাথে জানালো সে সবকিছু ছেড়ে চলে আসতে চায় আমার কাছে । আমি রিদিলাকে বোঝালাম এই ভালবাসায় সুখ নেই । ভালবাসা মানে যে বিয়ে তাও নয় । ভালবাসা মানে ত্যাগ ও। রিদিলা আমার কথা মানলনা । তাই ফেসবুকে রিদিলাকে জীবনের শেষ মেসেজ পাঠাই । ১৮৮০ ওয়ার্ডের মেসেজ ছিল । তাকে বলা আমার ১ম আই লাভ ইউ এবং শেষ আই লাভ ইউ বলে দিলাম । সাথে ভালবাসার দাবী নিয়ে বললাম আর যোগাযোগ না করার জন্য । কেঁটে গেল আরও ২টি বছর । কিন্তু কাটেনি মায়াবতীর (রিদিলা)র দিয়ে যাওয়া ভালবাসার ঝলক । আমি আজো তাকে ভালবাসি । মায়াবতীকে আমি কখনও ভুলতে পারবনা । এতটাই ভালবেসেছি যে অন্য কাউকে ভালবাসার মত আর কিছু আমার কাছে আর কিছু নেই । তবে আমি রিদিলাকে ভুলতে চাই । তাই তাকে ভোলার জন্য পটালাম আরেকটা মেয়েকে । তাতেও সফলতা পেলাম । বন্ধু নয় প্রেমিক হতে চাই । যাতে তার মাঝে থেকে ভুলতে পারি মায়াবতীকে । তবে নতুন মেয়েটাকে পটাতে সফল হলেও সফল হইনি মায়াবতীর ভালবাসা থেকে নিজেকে দুরে রাখতে । কিন্তু মায়াবতীকে আমি ভুলতে চাই । তার প্রতি আমার সত্যিকারের ভালবাসাকে করতে চাই অর্থহীন ।
আমার দেবী
আমার দেবী
<3 Inbox গল্প (02 July 2012)<3
লিখেছেনঃ শিখারথেপগ্নি
শিখারথেপগ্নি
মেয়েটাকে প্রথম দেখাতেই ভাল লেগে যায়। কি সুন্দর হাঁসি, কি সুন্দর দু’টো চোখ, কি সুন্দর করে কথা বলে, কি মিষ্টি কন্ঠ, কি সুন্দর করে পাশের সহপাঠিনীকে পড়া বুঝিয়ে দেয়! আমি প্রায় তিন মাস তার সাথে ক্লাস করেছি। ক্লাসগুলো করার আমার কোন দরকার ছিল না, তাও একটা ক্লাসও সেই তিনমাস বাদ দেই নি। ঝড় বৃষ্টি যাই হোক, ক্লাসে গিয়েছি তাকে দেখার জন্য। তার সাথে কথা হত না, কিন্তু আমি সবসময় তার দিকে চেয়ে থাকতাম। ইচ্ছে করেই কেবলাকান্তের মত তার দিকে তাকিয়ে থাকতাম, ভাবতাম সে যদি আমার চোখের ভাষা বুঝত!
আমার জীবনের সেরা তিনটি মাস কাটিয়েছি তখন। জীবনে কখনও প্রেম করিনি। কিন্তু প্রেমিকের মনের উত্তেজনাটা সেইসময় বুঝেছিলাম। চরম উত্তেজনায় দিন কাটছিল। সারাক্ষণ ভাবতাম, “কাল কি হবে? কাল কিভাবে তার সাথে ভাব জমাব?” ভাব জমানোর সুযোগ আর হত না। আর আমিও ছিলাম লাজুক ধরণের ছেলে।।
দিন চলে যেতে থাকল। সবগুলা ক্লাস শেষ হয়ে পরীক্ষা শুরু হল। সেও সবগুলা পরীক্ষা দিত, আমিও দিতাম, তার জন্য। আমি বুঝলাম যে সময় প্রায় শেষ। অথচ আমি তাকে কিছুই বলিনি। তার কারণ দুটো – আমি লাজুক, আর “না” শোনার ভয়ে! দু’জন ছিলাম দুই ধর্মের। সেজন্য আমি ধরেই নিয়েছিলাম যে সে আমাকে ফিরিয়ে দিবে।
আমি যেখানে থাকতাম সেই এলাকাটাতে সবাই মিলে খুব ভাল একটা কনিউনিটি ছিল। বলে রাখি, মেয়েটি সেখানে থাকত না। যাই হোক, আমি তাকে আমার অনুভূতির কথা বললে আমার এলাকার পাড়া প্রতিবেশি সব জেনে যেত এবং দুই জন দুই ধর্মের হওয়ায় খুব সমালোচনা হত। আব্বু আম্মু জানলে খুব লজ্জার ব্যপার হত। কিন্তু আমি ঠিক করলাম কিছু একটা করতেই হবে।
কয়েকটা পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর খাতা দেয়া শুরু করল। ঠিক করলাম পুরনো দিনের বাংলা সিনেমার মত “পত্র” পাঠাব। লিখতে গিয়ে আমারই হাঁসি পাচ্ছে! চালাকি করে পত্র লিখলাম। নাম সরাসরি ছিল না। যাই হোক, পত্র হাতে ধরিয়ে দিব, এমন বীরপুরুষ আমি না। ঠিক করলাম তার খাতায় কোনভাবে ঢুকিয়ে দিব। কাজটা কোনভাবেই করতে পারছিলাম না। কারণ খাতাগুলোর কাছে সবসময় ছাত্রছাত্রী থাকে। “পত্র” প্রজেক্ট ফেল করল।
শেষের পরীক্ষার দিন। প্রথমে অবজেক্টিভ, তারপর সাবজেক্টিভ। আমার অবস্থা তখন “It’s now or never.” আমি গিয়ে দেখি সে অফিসরুমে খাতা নিচ্ছে। এই খাতাগুলো পরীক্ষার শেষে দেয়ার কথা। সে আগেই নিচ্ছে। বুঝলাম শেষ পরীক্ষা সে দিবে না। Fair enough. পরীক্ষা তখন শুরু হবে। আমি হঠাৎ করেই বীরপুরুষ হয়ে গেলাম! পরিক্ষার রুমে ঢুকলাম না। গেটের বাইরে চলে গেলাম। সবাই পরীক্ষা দিবে, সে খাতা নিয়ে গেট দিয়ে বের হবে, আমি তখনই কিছু একটা করব। কি করব বা বলব I had no idea about that. যাই হোক, সময় চলে যাচ্ছিল। সে আর গেট দিয়ে বের হচ্ছে না। আমি অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে ভিতরে গেলাম ঘটনাটা দেখার জন্য। গিয়ে দেখি রাজকন্যা ক্যালকুলেটর টিপছেন! মানে উনি আগে খাতা নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন। অসুবিধে নেই, ঠিক করলাম পরীক্ষার পরেই বলব। তখন আমার মাঝে কোন ভয়ডর নাই। অবজেক্টিভ শেষ হল, সাবজেক্টিভ শুরু হবে। আমি হঠাত দেখি সে দরজা দিয়ে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। মানে সে সাবজেক্টিভ দিবে না। আমি তো আর সেটা জানতাম না। তাকে ধরার জন্য পরীক্ষা বাদ দিয়ে ছুটলাম, কিন্তু পারলাম না। রাস্তা পার হয়ে চলে গেল। আমার (সম্ভবত) শেষ সুযোগটাও শেষ হয়ে গেল।
এরপর তো শেষ। আর দেখা নাই। ওখানে পার্কের মত একটা জায়গা ছিল। সেখানে আমি যেতাম, চা খেতাম। ভাবতাম নিশ্চয় সেখানে তাকে একদিন না একদিন দেখতে পাব। দু’দিন দেখেছিলাম। দু’দিনই সে তার বাবার সাথে ছিল। তারপর দু’জন দু’জায়গায় চলে গেলাম। দেখা হবার কোন সম্ভাবনাই নেই। তার দিন হয়ত ভালই কাটে। আমাকে হয়ত মনে নেই, চিনেই না। তার দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া মনে রাখার মত কিছুই তো করিনি। কিন্তু এতদূরে থেকেও আমি তো তাকে ভুলিনি। তার সাথে দেখা না হলে হয়ত জীবনটা আজ এত হতাশার হত না। আমার দেবীটার একটা ছবি আমার কাছে আছে। মবাইলের ওয়ালপেপার হিসেবে সেভ করে রেখেছি। মানিব্যাগেও রেখে দিয়েছি। প্রতিদিন দেখি।
আমার ভালবাসার দেবীটা ভাল থাকুক...।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)