সোমবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১২

অবশেষে তাকে পাওয়া

অবশেষে তাকে পাওয়া
<3 Inbox গল্প (31 August 2012) <3
লিখেছেনঃ Farhad (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাই ছদ্ম নাম দেয়া হয়েছে)

2০০৩, ট্রেন চট্রগ্রাম এর পথে ...
রিং রিং রিং...হটাত ফোনটা ভেজে উটল ...ওপাশ থেকে কে যেন বলল ''তানিয়া হসপিটালে''।
গল্পের নায়িকাঃ- তানিয়া...
নায়ক আমি...
কক্সবাজারে যাচ্ছি আমার দুই কাজিন কে নিয়ে ট্রেনে করে, ট্রেন ও আসল ঠিক সময়ে, ট্রেনে উঠার ঠিক ২ ঘন্টার মাথায়, ঐ কলটা যেন সবকিছু এলোমেলো করে দিল, কি করব কিছু বুঝে ঊঠতে পারছি না. পরের স্টেশন এ নেমে বাসায় চলে আসলাম...
২ মাস পর জুলাই ২০০৩...
তানিয়া বাংলাদেশে আসতেছে এ খবরটা যখনই শুনলাম কি যে খুশি হলাম তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা, আমার মনে হয়েছিল আমার সারা জীবনেও আমি এত খুশি কোনদিন হয়নি...মনে মনে কত কিছু চিন্তা করতে লাগলাম দিন-রাত মাথায় শুধুই তানিয়া...
Flashback......
আমি তানিয়াকে ভালবাসি কখন থেকে ভালবাসি জানি না, মনে হয় জন্মের পর থেকেই, আমার মনে হয় আমার জন্মই হয়েছে শুধুই ওর জন্য...
তখন আমার বয়স ৬ আমরা সপরিবারে ইংল্যান্ডে থাকি, আমাদের পাশের বাসা ডিব্বিদের (ওকে আমি আদর করে ডাকতাম ডিব্বি আর ও আমাকে ডাকতো ডিব্বা )...ওর আব্বা আর আমার আব্বা বিজনেস-পার্টনার সে হিসেবে ওর আম্মা আর আমার আম্মার মাঝেও খুব ভাল সম্পর্ক...ওদের বাসায় কোন বাংলাদেশি খাবার বিশেষ করে শুটকি রান্না করা হলে আমাদের বাসায় আসত আর ওদের বাসায় রান্না করা হলে ওদের বাসায় যেত... এভাবে ও সারাদিনই আমদের বাসায় থাকত আর আমি ওদের বাসায় মানে সারা দিনই আমি যেখানে, তানিয়া সেখানে, যেন আমি ছাড়া তানিয়া অসম্পূর্ন ঠিক তেমনই তানিয়া ছাড়া আমি অসম্পূর্ন । সারাদিনই আমরা মারামারি দৌড়াদৌড়ি করতাম আমাদের বাসার সামনের বাগানে, এক জনের জন্য আরেক জনের মনের ঠান ও ছিল খুব বেশি ও যেমন আমাকে ফেলে কিছু খেতনা আমিও ওকে ছাড়া কিছু করতাম না ।
হয়ত এভাবেই চলে যেত আমাদের সারাজীবন, কিন্তু না আমদের ''লাভ স্টোরি'' এভাবে শেষ হল না... আজ বুঝতে পারছি যা হয়েছিল ভালই হয়েছিল, না হলে হয়ত আমরা কোনদিন ও বুঝতাম আমরা যে একজন আরেকজনকে এত ভালবাসি !...
যেকোন কারনে আমরা আমরা স্বপরিবারে আজীবনের জন্য বাংলাদেশে চলে আসি, মানে চাইলেও আর ইংল্যান্ডে যেতে পারব না বিশেষ করে আমার আব্বা... যাই হোক বাংলাদেশে এসে আমাদের কোন সমস্যা হল না সব কিছু ঠিক ঠাক মতই চলছিল, আমি এখানে স্কুল এ ভর্তি হলাম, প্রথম প্রথম তানিয়া কে মিস না করলে পরে এত মিস করা শুরু করি তা কোন রিয়েল লাভার ছাড়া বুঝতে পারবে না এবং তখনই বুঝতে পারি যে আমি ওকে ভালবাসি আর ওকে ছাড়া থাকা যে কত কষ্ট... এভাবে আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের দিনগুলি কাটতে থাকে তানিয়াকে ছাড়া...
১৯৯৮ তখন আমি ক্লাস ফোর এ পড়ি...
তানিয়া বাংলাদেশে ওর আন্টির বিয়ের জন্য এসেছে, তানিয়াদের ফ্যামিলি থাকত আমাদের বাসায়ই তখন আমার জীবনের হারানো সেই সুখের দিনগুলি ফিরে আসে আমি তানিয়াকে আবার আগের মত আপন করে নিতে একটু দেরি করলেও তানিয়া ঠিকই আমাকে আপন করে নিতে দেরি করল না আমাকে জড়িয়ে ধরে কিস করে বলত ''DIBBA U FORGET MEH NA?''... কিন্তু তখন আমি ওকে কিছু বলতে পারতাম না, কেন যে পারতাম না তা আজও জানি না, কিন্তু আমি তখন ঠিকই বুঝতে পারতাম আমি ওকে ভালবাসি, আর ওকে ছাড়া থাকতে আমার যে কত কষ্ট হয়... সুখের দিন খুব তাড়াতাড়ি চলে যায়, প্রায় ২ মাস পর তানিয়া আমাকে একা ফেলে চলে যায় ৭০০০ মাইল দূরে ।
আবার শুরু হয় একা একা আমার কষ্টের দিনগুলো... আমি একা একা তানিয়াকে নিয়ে চিন্তা করতে করতে সময় কাটাতে থাকি...
ওর ছবি দেখে দেখে কাটাতে থাকি দিনগুলি ।
এভাবে দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়, দেখতে দেখতে আমি এস.এস.সি পাশ করি ২০০৫ সালে,
জুলাই ০৯ ২০০৫...
ঢাকা এয়ারপোর্ট....তানিয়াদের বিমান ল্যান্ড করার কথা ছিল দুপুর ১২.৪৫ মিনিটে, বিমান ল্যান্ড করে ১.১০ মিনিটে, আমি ১.৪৫ মিনিটে গোলাপী রঙের ড্রেস পরা তানিয়াকে প্রথম বার দেখেই চিনে ফেলি আমার রানীকে...
গাড়ি চলছে, মধ্যখানে আন্টি (তানিয়ার আম্মা) এক পাশে আমি আরেক পাশে তানিয়া,,, আমি বার বার ওর দিকে তাকাচ্ছি কিন্তু ও একটি বারের জন্য ও আমার দিকে তাকাল না ।
কয়েকদিন কেটে গেল কিন্তু তানিয়া একবারও আমার দিকে তাকাল না কোন কথা বলল না, আমার তখন মরি-বাচিঁ আবস্থা, যাকে আমি এত ভালবাসি সে কিনা আমাকে হাই পর্যন্ত বলল না... প্রায় এক মাস পর্যন্ত চলল এরকম...
এক মাস পর...
রাত ১২ টায় একটা কল আসল আমার ফোনে, নাম্বারটা আমার চিনা, কারন এটা আমার নাম্বার যা তানিয়াকে দেয়া হয়েছিল, আমি এর আগে তানিয়াকে কল দেইনি কারন আমি চাচ্ছিলাম ও আমিকে কল দিক...
ও আমাকে বলল ''তুমি কেন সবাইকে বলছ আমাকে ভালবাস ?'' আমি বললাম আমি কাওকে বলিনি আমি তোমাকে ভালবাসি, তবে এটা সত্যি আমি তোমাকে ভালবাসি এবং তোমাকে ছাড়া বাচঁব না ।
তখন ও বলল ''i don't know what is love but we can be good friend''...
আমি বললাম Ok তুমি আমাকে ফ্রেন্ড ভাবতে পার কিন্তু আমি তুমাক ঠিকই ভালবেসে যাব, ও বলল Ok যদি আমি কোনদিন ভালোবাসার মানে বুঝতে পারি, তোমাকে জানাব... এভাবে প্রত্যেক দিন চলতে আমাদের কথা বলা আর বার্তা আদান-প্রদান ।
দেখতে দেখতে আমার সুখের দিনগুলি আবার চলে যায় তানিয়ার যাওয়ার সময় এসে যায়, যাওয়ার আগের রাতে আমরা সারা রাত কথা বলি ও আমাকে বলে আমি তোমাকে পছন্দ করি, তোমাকে কখনও ভুলতে পারব না, কিন্তু আমি তোমার ফ্রেন্ড হয়ে থাকতে চাই, আমি বললাম তোমার যা ইচ্ছা কর আমি তোমাকে কখনও জোর করে কাছে আনব না আর তোমাকে কখনও ভুলতেও পারব না, তুমি শুধু আমাকে ভালোবাসতে দিও তোমাকে...
তানিয়া আবার আমাকে একা ফেলে চলে গেল আবার আমার দিনগুলি আগের মত বিরহে কাটতে লাগল...
তানিয়া ইংল্যান্ডে গিয়ে আমার সাথে কোন যোগাযোগ করল না ।
নভেম্বর ২০০৫...
এইচ.এস.সি পাশের পর আমি এক মাসের জন্য লন্ডন যাচ্ছি, খুব খুশি মনে আমি আবার আমার রানীকে দেখতে পাব ।
আমি লন্ডনে আসার ২ দিন পর আমার সাথে তানিয়ার দেখা হয়, আর আমি জানতে পারি যে তানিয়া অন্য একটা ছেলেকে ভালোবাসে, আমার ভাঙ্গা হৃদয় যেন চূড়মার হয়ে গেল । তবুও আমি তানিয়ার সাথে খুব স্বাভাবিক আচরন করি এবং ওর সত্যবাদিতা আর নিষ্পাপ আচরন আমাকে ওর প্রতি আরও আকৃষ্ট করতে লাগল, আমি ওকে আরও বেশী ভালোবাসতে লাগলাম এবং ওকে বুঝাতে লাগলাম আমি ওকে কত ভালোবাসি !!! একদিন আমি ওকে আমার লেখা একটি ডায়েরী পড়তে দিলাম, এর পর দুই দিন ওর সাথে আমার দেখা হয়নি, পরে অবশ্য জেনেছিলাম ও আমার ডায়েরী পরে সারারাত কেদেঁছিল ।
তারপর আমি একদিন তানিয়া একসাথে সারা লন্ডন ঘুরলাম এবং একজন আরেক জনের খুব কাছে আসতে শুরু করলাম ।
এক মাস পর ২৪ ডিসেম্বর আমার দেশে আসার সময় হয়ে গেল ও আমাকে বিদায় জানাতে এয়ারপোর্টে এল ও আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল ''may b i'm fallen in love with u''. কিন্তু আমি তোমাকে জানাব ২৬ ডিসেম্বর মানে আমার বাংলাদেশে আসার ২ দিন পর...
আমি দেশে এসে কোন আশাই করিনি ও আমাকে কল করবে বা আমার সাথে কোন যোগাযোগ করবে, কিন্তু ও আমাকে টিকই কল করতে লাগল এবং আমরা আগের মত কথা বলতে লাগলাম, সারাদিন যা যা করতাম তা আমরা শেয়ার করতাম । কিন্তু ও আমাকে কিছুই বলল না আমাকে ভালোবাসে কি না !!!!
দেশে এসে ওকে না দেখে থাকতে আমার খুব কষ্ট হতে লাগল, তাই আমি আবার স্টুডেন্ট ভিসায় ইংল্যান্ড যাওয়ার চেষ্টা করলাম কিন্তু ভিসা পেলাম না ।
জুলাই ২০০৬...
৬ মাস পর স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে জার্মানী গেলাম, তখনও তানিয়ার সাথে আমার ফোনে কথা হত, আমি জার্মানী থেকে আবার লন্ডন যাওয়ার চেষ্টা করলাম কিন্তু এবারও ভাগ্য আমার সহায় হল না মানে ভিসা পেলাম না ।
খুব কষ্ট হতে লগলো কয়েক ঘন্টার দূরুত্বের মাঝে থেকেও আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির সাথে দেখা করতে পারছি না, যার জন্য এত দূর আসা...
অনেক কিছুর পর তানিয়াকে রাজী করালাম আমরা ৩১ আগষ্ট (তানিয়ার জন্মদিন) প্যারিসে দেখা করব...
০২ সেপ্টেম্বর ২০০৬...
আমরা প্যারিসে দেখা করলাম, ওর জন্মদিন পালন করলাম, আমরা একসঙ্গে ৩ দিন ৬ ঘন্টা ৪৬ মিনিট ২৫ সেকেন্ড একসঙ্গে কাটালাম, খুব ইনজয় করলাম... আর আমি ওকে বুঝাতে লাগলাম আমি ওকে কত ভালবাসি ।
৩ দিন পর আমি জার্মানী আর ও ইংল্যান্ড চলে গেল । আমাদের ফোনে কথা বলার মাত্রা আরও বেড়ে গেল।
০৪ নভেম্বর ২০০৬...
হঠাত ডোর বেল ভাজতেছে দরজা খুলে যা দেখলাম আমার জ্ঞান হারাবার মত অবস্থা হল, তানিয়া আমার সামনে হাতে কেক,
(৪ নভেম্বর আমার জন্মদিন) তানিয়া আমার বাসায় ছিল ২ দিন, আমি ওকে নিয়ে সারা ফ্রাঙ্কফোর্ট ঘুরলাম, ০৬ নভেম্বর ও চলে যাবে, আমি ওর সাথে বার্লিন পর্যন্ত ট্রেনে গেলাম অনেক কথা হল আমাদের মাঝে, একসময় তানিয়া আমাকে খুব আস্তে করে বলল '' will u marry me''. আমি বললাম কি? ও তখন আমাকে আবার জোড়ে বলল ''i wanna spend ma whole life with u'' will u?... আমি তখন ভাষা হারিয়ে ফেলি, প্রায় ১০ মিনিট পর আমি ওকে জড়িয়ে ধরে কিস করতে থাকি...
২৯ এপ্রিল ২০০৭...
আমি আর তানিয়া একসাথে বাংলাদেশে আসি, কি একনও বুঝলেন না ???
০৯ মে ২০০৭...
আমাদের বিয়ে...
১১ অক্টোবর ২০১১...
এখন আমরা আমস্টার্ডামে আজ সাড়ে চার বছর হল আমাদের বিয়ের, এ সাড়ে চার বছরে আমরা একটা দিনও কেউ কাওকে ছাড়া কাটাইনি...
আজ আমাদের ঘর আলো করে এসেছে ''feona'' আমাদের একমাত্র ১ বছরের মেয়ে...
আজও যখন ঘুম থেকে উঠি ওর কিসে আর উঠে শুনতে পাই ''i love u''.. কিংবা আমি ওকে কিস করে ঘুম থেকে তুলি আর বলি ''i love u''... তখন শুধুই মনে হয় জন্মেছি শুধু তুমারই জন্য...........................


<3 প্রিয় পাঠকশ্রোতা এটা আমার জীবনের চিরন্তন সত্য গল্প............যা এই প্রথম আমি এই পেইজ এ লিখেছি...... ৩ দিন অনেক কষ্ট করে লিখেছি আমি সিলেটের মানুষ তাই শুদ্ধ বাংলা বলতে খুব সমস্যা হয়, তাই আমি আমার এক ফ্রেন্ডের সাহায্য নিয়ে লিখেছি......ভুল হলে ক্ষমা করে দিবেন............... আর আশা করি যে যাকে ভালোবাসে, সে যেন তাকে পায়............ <3

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন