আমার দেবী
<3 Inbox গল্প (02 July 2012)<3
লিখেছেনঃ শিখারথেপগ্নি
শিখারথেপগ্নি
মেয়েটাকে প্রথম দেখাতেই ভাল লেগে যায়। কি সুন্দর হাঁসি, কি সুন্দর দু’টো চোখ, কি সুন্দর করে কথা বলে, কি মিষ্টি কন্ঠ, কি সুন্দর করে পাশের সহপাঠিনীকে পড়া বুঝিয়ে দেয়! আমি প্রায় তিন মাস তার সাথে ক্লাস করেছি। ক্লাসগুলো করার আমার কোন দরকার ছিল না, তাও একটা ক্লাসও সেই তিনমাস বাদ দেই নি। ঝড় বৃষ্টি যাই হোক, ক্লাসে গিয়েছি তাকে দেখার জন্য। তার সাথে কথা হত না, কিন্তু আমি সবসময় তার দিকে চেয়ে থাকতাম। ইচ্ছে করেই কেবলাকান্তের মত তার দিকে তাকিয়ে থাকতাম, ভাবতাম সে যদি আমার চোখের ভাষা বুঝত!
আমার জীবনের সেরা তিনটি মাস কাটিয়েছি তখন। জীবনে কখনও প্রেম করিনি। কিন্তু প্রেমিকের মনের উত্তেজনাটা সেইসময় বুঝেছিলাম। চরম উত্তেজনায় দিন কাটছিল। সারাক্ষণ ভাবতাম, “কাল কি হবে? কাল কিভাবে তার সাথে ভাব জমাব?” ভাব জমানোর সুযোগ আর হত না। আর আমিও ছিলাম লাজুক ধরণের ছেলে।।
দিন চলে যেতে থাকল। সবগুলা ক্লাস শেষ হয়ে পরীক্ষা শুরু হল। সেও সবগুলা পরীক্ষা দিত, আমিও দিতাম, তার জন্য। আমি বুঝলাম যে সময় প্রায় শেষ। অথচ আমি তাকে কিছুই বলিনি। তার কারণ দুটো – আমি লাজুক, আর “না” শোনার ভয়ে! দু’জন ছিলাম দুই ধর্মের। সেজন্য আমি ধরেই নিয়েছিলাম যে সে আমাকে ফিরিয়ে দিবে।
আমি যেখানে থাকতাম সেই এলাকাটাতে সবাই মিলে খুব ভাল একটা কনিউনিটি ছিল। বলে রাখি, মেয়েটি সেখানে থাকত না। যাই হোক, আমি তাকে আমার অনুভূতির কথা বললে আমার এলাকার পাড়া প্রতিবেশি সব জেনে যেত এবং দুই জন দুই ধর্মের হওয়ায় খুব সমালোচনা হত। আব্বু আম্মু জানলে খুব লজ্জার ব্যপার হত। কিন্তু আমি ঠিক করলাম কিছু একটা করতেই হবে।
কয়েকটা পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর খাতা দেয়া শুরু করল। ঠিক করলাম পুরনো দিনের বাংলা সিনেমার মত “পত্র” পাঠাব। লিখতে গিয়ে আমারই হাঁসি পাচ্ছে! চালাকি করে পত্র লিখলাম। নাম সরাসরি ছিল না। যাই হোক, পত্র হাতে ধরিয়ে দিব, এমন বীরপুরুষ আমি না। ঠিক করলাম তার খাতায় কোনভাবে ঢুকিয়ে দিব। কাজটা কোনভাবেই করতে পারছিলাম না। কারণ খাতাগুলোর কাছে সবসময় ছাত্রছাত্রী থাকে। “পত্র” প্রজেক্ট ফেল করল।
শেষের পরীক্ষার দিন। প্রথমে অবজেক্টিভ, তারপর সাবজেক্টিভ। আমার অবস্থা তখন “It’s now or never.” আমি গিয়ে দেখি সে অফিসরুমে খাতা নিচ্ছে। এই খাতাগুলো পরীক্ষার শেষে দেয়ার কথা। সে আগেই নিচ্ছে। বুঝলাম শেষ পরীক্ষা সে দিবে না। Fair enough. পরীক্ষা তখন শুরু হবে। আমি হঠাৎ করেই বীরপুরুষ হয়ে গেলাম! পরিক্ষার রুমে ঢুকলাম না। গেটের বাইরে চলে গেলাম। সবাই পরীক্ষা দিবে, সে খাতা নিয়ে গেট দিয়ে বের হবে, আমি তখনই কিছু একটা করব। কি করব বা বলব I had no idea about that. যাই হোক, সময় চলে যাচ্ছিল। সে আর গেট দিয়ে বের হচ্ছে না। আমি অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে ভিতরে গেলাম ঘটনাটা দেখার জন্য। গিয়ে দেখি রাজকন্যা ক্যালকুলেটর টিপছেন! মানে উনি আগে খাতা নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছেন। অসুবিধে নেই, ঠিক করলাম পরীক্ষার পরেই বলব। তখন আমার মাঝে কোন ভয়ডর নাই। অবজেক্টিভ শেষ হল, সাবজেক্টিভ শুরু হবে। আমি হঠাত দেখি সে দরজা দিয়ে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। মানে সে সাবজেক্টিভ দিবে না। আমি তো আর সেটা জানতাম না। তাকে ধরার জন্য পরীক্ষা বাদ দিয়ে ছুটলাম, কিন্তু পারলাম না। রাস্তা পার হয়ে চলে গেল। আমার (সম্ভবত) শেষ সুযোগটাও শেষ হয়ে গেল।
এরপর তো শেষ। আর দেখা নাই। ওখানে পার্কের মত একটা জায়গা ছিল। সেখানে আমি যেতাম, চা খেতাম। ভাবতাম নিশ্চয় সেখানে তাকে একদিন না একদিন দেখতে পাব। দু’দিন দেখেছিলাম। দু’দিনই সে তার বাবার সাথে ছিল। তারপর দু’জন দু’জায়গায় চলে গেলাম। দেখা হবার কোন সম্ভাবনাই নেই। তার দিন হয়ত ভালই কাটে। আমাকে হয়ত মনে নেই, চিনেই না। তার দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া মনে রাখার মত কিছুই তো করিনি। কিন্তু এতদূরে থেকেও আমি তো তাকে ভুলিনি। তার সাথে দেখা না হলে হয়ত জীবনটা আজ এত হতাশার হত না। আমার দেবীটার একটা ছবি আমার কাছে আছে। মবাইলের ওয়ালপেপার হিসেবে সেভ করে রেখেছি। মানিব্যাগেও রেখে দিয়েছি। প্রতিদিন দেখি।
আমার ভালবাসার দেবীটা ভাল থাকুক...।
ভিজিট করতে পারেন www.bloggermaruf.blogspot.com
উত্তরমুছুন