অসমাপ্ত
<3 Inbox গল্প (05 July 2012) <3
লেখক:অর্থহীন
২০০৮. দিনটা ছিল খুব গরমের, সাথে ছিল হালকা বাতাস। তাই ঘরের সামনে এসে বসেছিলাম একটু ঠান্ডা বাতাসের আশায়। ঠিক তখনই মিসকল আসল ফোনে। মিসকল দেয়া নাম্বারে ফোন দিলাম। সুন্দর ১টা মেয়ের কন্ঠ শুনতে পেলাম।যার মতো সুন্দর কন্ঠ আমি আজো শুনিনি। তার এত সুন্দর কন্ঠ আমার কাছে বাতাসের মত মনে হল। কথা বলার পর জানতে পারলাম যে ভুল নাম্বারে ফোন করেছে সে। তার নাম টা ছিল রিদিলা। আমার নাম জানতে চাইল সে। মিতথে করে কড়া রোদের মর্ধে ছিলাম বলে নাম টা বললাম রোদ।চিনিনা তাতে কি? বড় বড় কবিদের কিছু ডায়লগ শুনিয়ে ফোনে পটানোর চেষ্টা করতে লাগলাম প্রতিদিন। অবশেষে ১দিন সফল হলাম। প্রেমিক নয় হলাম বন্ধু। সারাদিন কথা বলতাম তার সাথে। বলতে বলতে যখন কথা আর থাকতনা। তখন মিতথে বলে বলে সময় কাটাতাম। রিদিলা বলত কম, শুনত বেশি বেশি। শুধু তাই নয় তার রাগও ছিল বেশি বেশি। মাঝে মাঝে খুব রেগে যেত। তখন অননের ডায়লগ নিজের বলে চালিয়ে রাগ কমাতাম রিদিলার। কয়েকদিন পরপর আমাদের ঝগড়া হত। আবার মিলে যেতাম। এভাবেই কাটতে লাগল আমার সপ্নের মত দিনগুলি। একদিন হঠাত্ করে আমি রিদিলাকে বললাম চলো দেখা করি। রিদিলা রাজী হল। দিনটি ছিল পহেলা বৈশাখ। ১টা নির্দিষ্ট সময়ে, ১টা নির্দিষ্ট স্থানে আমাদের ১ম দেখা হল। তবে দুর থেকে। রিদিলাকে দেখতে আমার ভাল লাগেনি। কিন্তু আমাকে তার ভাল লেগেছিল। তবুও কথা বলতাম। ১টা সময় ভাবতাম খুব সুন্দর ১টা মেয়েকে ভালবাসবো। কিন্তু আজ সে ধারণা আমার আর নেই। রিদিলাকে আমি ভালবাসতাম না। কিন্তু ১টা আবেগ কাজ করত। কারণ তার হাসিতে ছিল ঝরণার ধারা, তার মৃদু কন্ঠে আমি আমাকে হারাতাম আজানায়। তাকে নিয়ে লিখতাম কবিতা আর কবিতা। তাকে ঘিরে ছিল আমার সব ভাললাগা। সবসময় সে আমার কল্পনার মঝে থাকত। সে ছিল মায়ারাজের রাজকননা। তাই তাকে আমি ডাকতাম মায়াবতী। আমার সাথে মায়াবতীর গল্পটা ঠিকঠাক ভাবেই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ আমার মনে হল যে আমি সনাতন (হিন্দু) আর রিদিলা মুসলিম। আমি তাকে ছাড়া থাকতে পারতাম না। তার প্রতি আমার এই আবেগটা ভালবাসায় পরিণত হতে পারে। রিদিলা জানেনা আমি মুসলিম নই। তাই একদিন এই কথাটা বলে দিলাম। অনেক ঝগড়া হল কিন্তু সে আমাকে দুরে সরে যেতে দিলনা । অনেক ভাবে অনেক চেষ্টা করলাম লাভ হল না। অবশেষে বাজে কিছু কাজের মাধ্যমে আমাদের সম্পর্কের অবসান হল । তবে রিদিলা এবং আমার মাঝে আবার কথা হবে প্রতি বছর ভালবাসা দিবসে । ভালবাসা দিবস এলো ২০০৯ ফোন দিলনা। আসল ২০১০ তাও ফোন দিল না । তাই আমি নিজেই ওর ফোনে ফোন দিলাম । ফোন অফ । মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল আমার । সত্যি কথা বলতে কি আমি রিদিলাকে ভালবেসে ফেলেছি । এই ২টা বছর আমার ফোনে যত মিসকল এসেছে আমি সবগুলোতে ফোন করতাম রিদিলা ভেবে । তাকে ভেবে লিখেছি শত শত গান। প্রতি রাতে সপ্নে তার সাথে দেখা হত । তাই একদিন লিখতে লাগলাম আমার অসমাপ্ত উপন্যাসের ৫৫৫ পেজের এই লেখাটা. . . . . . . . কিছু ভালোলাগা এবং ভালোবাসা যা অমলিন । কিছু নতুন স্বপ্ন যা দেয় আমাদের আনন্দের প্রতিশ্রুতি । কিছু মানুষ রয়েছে যাদের নিয়ে ভাবলে মনের মাঝে যেন জেগে উঠে একটু খানি আনন্দের ছটা । কিছু হাসি রয়েছে যা জাগিয়ে তোলে হারানো অনুভুতি গুলো নতুন রুপে । কিছু অভিমান যা ভাবিয়ে তোলে মনকে সম্পর্ক হারানোর ভয়ে। আরও কিছুদিন কেটে গেল । একদিন বিদেশি নাম্বার থেকে আমার ফোনে ১টা মেয়ের ফোন আসে । সেই পরিচিত সুর রিদালা । রিদিলা এখন আমেরিকা থাকে । অনেকদিন পর কাছে পেয়ে লুকিয়ে থাকা সব অভিমান ওকে জানালাম । ফেসবুকে এড করলাম । প্রায় কথা হত চ্যাট হত । আস্তে আস্তে ভালবাসা বারতে লাগল আমার । আমাকে রিদিলা ভালবাসে তা জানিয়ে দিল একদিন । সাথে জানালো সে সবকিছু ছেড়ে চলে আসতে চায় আমার কাছে । আমি রিদিলাকে বোঝালাম এই ভালবাসায় সুখ নেই । ভালবাসা মানে যে বিয়ে তাও নয় । ভালবাসা মানে ত্যাগ ও। রিদিলা আমার কথা মানলনা । তাই ফেসবুকে রিদিলাকে জীবনের শেষ মেসেজ পাঠাই । ১৮৮০ ওয়ার্ডের মেসেজ ছিল । তাকে বলা আমার ১ম আই লাভ ইউ এবং শেষ আই লাভ ইউ বলে দিলাম । সাথে ভালবাসার দাবী নিয়ে বললাম আর যোগাযোগ না করার জন্য । কেঁটে গেল আরও ২টি বছর । কিন্তু কাটেনি মায়াবতীর (রিদিলা)র দিয়ে যাওয়া ভালবাসার ঝলক । আমি আজো তাকে ভালবাসি । মায়াবতীকে আমি কখনও ভুলতে পারবনা । এতটাই ভালবেসেছি যে অন্য কাউকে ভালবাসার মত আর কিছু আমার কাছে আর কিছু নেই । তবে আমি রিদিলাকে ভুলতে চাই । তাই তাকে ভোলার জন্য পটালাম আরেকটা মেয়েকে । তাতেও সফলতা পেলাম । বন্ধু নয় প্রেমিক হতে চাই । যাতে তার মাঝে থেকে ভুলতে পারি মায়াবতীকে । তবে নতুন মেয়েটাকে পটাতে সফল হলেও সফল হইনি মায়াবতীর ভালবাসা থেকে নিজেকে দুরে রাখতে । কিন্তু মায়াবতীকে আমি ভুলতে চাই । তার প্রতি আমার সত্যিকারের ভালবাসাকে করতে চাই অর্থহীন ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন